সোমবার, ২৯ Jun ২০২৬, ০২:০৪ অপরাহ্ন
রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর হঠাৎ করে বিশ্বে খাদ্য সংকট দেখা দেয়। কারণ সারাবিশ্বে খাদ্য রফতানির শীর্ষ দেশ হলো রাশিয়া এবং ইউক্রেন। যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়া এবং ইউক্রেন থেকে শষ্য রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে হু হু করে বাড়তে থাকে খাদ্যসামগ্রীর মূল্য। এতে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। বিশেষ করে যে দেশগুলো আমদানী নির্ভর সে দেশগুলোর অবস্থা খারাপের দিকে যেতে থাকে। তখন জাতিসংঘ এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট উদ্যোগ নেয় নতুন করে খাদ্য রফতানির জন্য। অবশেষে রাশিয়া রাজি হয়। পরবর্তিতে এই শষ্য রফতানি চুক্তি হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন এই চুক্তির মেয়াদ না বাড়ালে বিশ্বে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে।
জানা যায়, রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধের জেরে স্বাক্ষরিত কৃষ্ণসাগরীয় শস্য চুক্তির মেয়াদ শেষ। প্রায় এক বছর আগে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মেয়াদ বেশ কয়েক দফায় বাড়ানো হয়েছে এবং আজ সোমবার শেষ হতে চলেছে এটির মেয়াদ।
রাশিয়া এখনও এই চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে রাজি না হওয়ায় এর ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। আর এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেন ছেড়ে গেছে শস্যবাহী শেষ জাহাজটি। সোমবার (১৭ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। নতুন করে চুক্তির মেয়ার বৃদ্ধি না করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার শেষ হতে চলেছে কৃষ্ণসাগর চুক্তির সময়সীমা। ইতোমধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে শস্য চুক্তির অধীনে ইউক্রেনের ওডেসা বন্দর ছেড়ে গেছে শস্যবাহী সর্বশেষ জাহাজটি।
ডেটা সাইট মেরিনট্র্যাফিক বলছে, মেয়াদ শেষ হওয়ার একদিন আগে স্থানীয় সময় রোববার সকালে শস্য নিয়ে বন্দর ছেড়ে যায় জাহাজটি। বার্তাসংস্থা রয়টার্সও এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেছে, টিকিউ স্যামসান নামের শস্যবাহী জাহাজটি রোববার ইউক্রেনের বন্দর ছেড়েছে।
বিবিসি বলছে, রাশিয়া তার নিজস্ব শস্য ও সারের চাহিদা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত জাতিসংঘের মধ্যস্ততায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে রাজি হয়নি। মূলত ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণ মাত্রায় আগ্রাসনের পর বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকটের আশঙ্কার মধ্যে ২০২২ সালের জুলাই মাসে চুক্তিটি করা হয়েছিল।
বিশ্বের শীর্ষ শস্য রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে ইউক্রেন এবং রাশিয়া উভয়ই রয়েছে।
মেরিন ট্র্যাফিক বলেছে, তুরস্কের পতাকাবাহী ওই জাহাজটি স্থানীয় সময় রোববার সকাল ৮টার পরপরই ইউক্রেনের ওডেসা বন্দর ছেড়ে তুরস্কের শহর ইস্তাম্বুলের দিকে যাত্রা করে। ইউক্রেন অবশ্য এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে গত শনিবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানান, মস্কোর নিজস্ব খাদ্য রপ্তানি এবং অন্যান্য প্রধান কিছু বিষয়ের প্রতিবন্ধকতা দূর করার প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হয়নি। তার এই মন্তব্য এই ইঙ্গিত দেয় যে, শস্য চুক্তিতে মস্কো তার অংশগ্রহণ স্থগিত করতে পারে।